হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার চারটি কলেজে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। প্রকাশিত ফলাফলে পাসের চেয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, উপজেলার চারটি কলেজ থেকে এবার মোট ১ হাজার ৭০১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৮৩৭ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৮৬৪ জন। অর্থাৎ পাসের তুলনায় ২৭ জন বেশি শিক্ষার্থী ফেল করেছে। চার কলেজ মিলিয়ে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৯ দশমিক ২০ শতাংশ।
কলেজভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, শচীন্দ্র কলেজে পাসের হার ৬০ দশমিক ১৪ শতাংশ। এ কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। সুফিয়া মতিন মহিলা কলেজে পাসের হার ৪১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। বানিয়াচং আইডিয়াল কলেজে পাসের হার ৩২ দশমিক ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে জনাব আলী সরকারি কলেজে পাসের হার মাত্র ৩১ দশমিক ১১ শতাংশ। এ কলেজ থেকেও জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ১ জন।
ফলাফলের এই চিত্রে বিশেষ করে বানিয়াচং আইডিয়াল কলেজ ও জনাব আলী সরকারি কলেজের পাসের হার ৩৩ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। সামগ্রিকভাবে চারটি কলেজের ফলাফলই উপজেলার শিক্ষার মান, পাঠদান পদ্ধতি ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শিক্ষার মানোন্নয়নে অতীতেও বানিয়াচংয়ের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে একাধিকবার মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সভায় শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, পাঠদানের মান বাড়ানো এবং পরীক্ষার ফলাফল ভালো করার বিষয়ে নানা দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এসব উদ্যোগের দৃশ্যমান কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ সচেতন মহলের।
বারবার সভা-সেমিনার ও আশ্বাসের পরও শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর অগ্রগতি কেন হচ্ছে না? শুধু মতবিনিময় সভা কিংবা প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত তদারকি, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ফলাফল পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে আলোচনা চললেও বাস্তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ ও এর দায়ভার সম্পর্কে জানতে সংশ্লিষ্ট দুই কলেজের অধ্যক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি। বানিয়াচং আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফরিদ হোসেন এবং জনাব আলী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান খানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তারা ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।