হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে বসতবাড়ির জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে নির্মমভাবে খুন হওয়া বৃদ্ধা কলম চাঁন হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান পলাতক আসামি ইমন মিয়া (২৭)-কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গত শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে ডিএমপি ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানা এলাকায় এক যৌথ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে, এম, শহিদুল ইসলাম সোহাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতারকৃত ইমন মিয়া শায়েস্তাগঞ্জ থানাধীন ব্রাহ্মণডোরা গ্রামের মৃত ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে। তিনি এই আলোচিত হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ২নং আসামি।
থালা-বাসনের পানি ফেলা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত
ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, শায়েস্তাগঞ্জের ব্রাহ্মণডোরা এলাকার বাসিন্দা ভিকটিম কলম চাঁনের পরিবারের সাথে আসামিদের বসতবাড়ির জমি নিয়ে পূর্ব থেকেই তীব্র বিরোধ চলছিল এবং এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে। গত ২৭ জুন ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে ভিকটিমের নাতনি কেয়া আক্তার বাড়ির উঠানে থালা-বাসন পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় ধৌত করা ময়লা পানি অসাবধানতাবশত বিরোধীয় জমিতে গড়ালে ১নং আসামি ফারুক মিয়া তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। কেয়া এর প্রতিবাদ করলে ফারুক মিয়ার ডাকে অন্য বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঘটনাস্থলে এসে ভিকটিমের পরিবারের ওপর চড়াও হয়।
একপর্যায়ে কলম চাঁনের ছেলে ঘর থেকে বের হয়ে গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে ১নং আসামির হুকুমে অন্যান্যরা দেশীয় ধারালো ও মারাত্মক অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় বৃদ্ধা কলম চাঁন তার ছেলেকে বাঁচাতে ও আসামিদের বাধা দিতে এগিয়ে আসলে, সন্ত্রাসীরা তাকেও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্মমভাবে আঘাত করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কলম চাঁনকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় ভিকটিমের ছেলে বাদী হয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাবের যৌথ অভিযান ও সাফল্য
র্যাব জানায়, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর মামলার আসামিরা আত্মগোপনে চলে গেলে র্যাব-৯ ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প এবং ঢাকার র্যাব-১, সদর কোম্পানীর একটি চৌকস দল গতকাল শেরেবাংলা নগর এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে ২নং আসামি ইমন মিয়াকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে গত ৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে এই মামলার প্রধান (১নং) আসামিকে র্যাব-৯ কর্তৃক সফল অভিযানের মাধ্যমে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
থানায় হস্তান্তর
র্যাব-৯ এর মিডিয়া উইং জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট শায়েস্তাগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে এবং এলাকার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাবের চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।