হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা ও আগস্ট-২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোঃ তারেক মাহমুদ। সভাটি সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ রাশেদুল হক চৌধুরী।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এস এম মনসুর মূসা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বানিয়াচং ও বাহুবল সার্কেল) প্রবাস কুমার সিংহ, সহকারী পুলিশ সুপার (মাধবপুর সার্কেল) এ. কে. এম. সালিমুল হক, শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ তানভীর আহাম্মদ, কোর্ট ইন্সপেক্টর, ডিআইও-১ (ডিএসবি), জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জ, ইন্সপেক্টর (ডিবি), টি.আই (অ্যাডমিন)সহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কল্যাণ সভায় পুলিশ সুপার বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য মনোযোগ ও ধৈর্যের সঙ্গে শোনেন। এ সময় পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন সমস্যা ও কল্যাণমূলক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন পুলিশ সুপার। একই সঙ্গে সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।
পরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আগস্ট-২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়।
সভায় খুন, ধর্ষণ, ডাকাতিসহ অন্যান্য চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন পুলিশ সুপার মোঃ তারেক মাহমুদ। দীর্ঘদিন ধরে তদন্তাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি।
এছাড়া অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন, গুরুত্বপূর্ণ মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত এবং জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যকর নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
সভায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত এবং বিভিন্ন কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ সদস্যদের মাঝে পুলিশ সুপার নিজ হাতে শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করেন। একই সঙ্গে অভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে আগস্ট মাসের শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, জনগণের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “হবিগঞ্জ জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোর তদন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে তদন্তাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় হতে হবে।”
তিনি বলেন, “পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ ও তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানেও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে জনগণের সঙ্গে ভালো আচরণ, পেশাদারিত্ব, সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের জানমাল ও নিরাপত্তা রক্ষায় জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।”