হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ২০২৬ সালের শ্রী শ্রী শারদীয়া দুর্গাপূজার মূল উৎসব শুরু হবে ১৬ অক্টোবর এবং বিজয়া দশমী পালিত হবে ২১ অক্টোবর। এবছর বানিয়াচং উপজেলায় মোট ১২২টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
পূজাকে সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপে চলছে সাজসজ্জা ও প্রস্তুতির কাজ। পাশাপাশি প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পীরা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কর্মযজ্ঞ।
উপজেলা সদরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও বাঁশ ও কাঠ দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরির কাজ চলছে, আবার কোথাও খড়ের ওপর মাটির প্রলেপ দিয়ে প্রতিমার অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। ধীরে ধীরে মাটির প্রতিমায় ফুটে উঠছে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য দেব-দেবীর রূপ। প্রতিমা তৈরির পর রং ও সাজসজ্জার কাজও শুরু হবে।
প্রতিমাশিল্পীরা জানান, প্রতিমা তৈরির কাজ বেশ সময়সাপেক্ষ ও শ্রমনির্ভর। কয়েক ধাপে মাটি দিয়ে প্রতিমার অবয়ব তৈরি করার পর তা শুকিয়ে রং ও সাজসজ্জা করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে তারা দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। ইতোমধ্যে অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এখন প্রতিমায় প্রাণবন্ত রূপ দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। চলছে রংতুলির শেষ আঁচড় ও সাজসজ্জার কাজ।
মণ্ডপে মণ্ডপে দেখা গেছে, মাটির তৈরি প্রতিমাগুলো শুকিয়ে যাওয়ার পর কারিগররা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন রং করার কাজে। দেবী দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক ও গণেশসহ অন্যান্য প্রতিমায় নিখুঁতভাবে রঙের প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে। রংতুলির ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে প্রতিমাগুলো হয়ে উঠছে আরও আকর্ষণীয় ও জীবন্ত।
প্রতিমাশিল্পী অনয় দাস জানান, প্রতিমা তৈরির চেয়ে শেষ মুহূর্তের রং ও সাজসজ্জার কাজও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রতিমার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে অত্যন্ত যত্ন ও সময় নিয়ে কাজ করতে হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই সব কাজ শেষ করতে তারা দিন-রাত পরিশ্রম করছেন।
আরেক প্রতিমাশিল্পী বিপুল সরকার বলেন, “প্রতিমা তৈরির মূল কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে রং ও সাজসজ্জার কাজ। রংতুলির শেষ আঁচড় দেওয়ার পরই প্রতিমাগুলো পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে।” সময়মতো কাজ শেষ করে সুন্দরভাবে প্রতিমা তুলে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”
বানিয়াচং পূজা উদযাপন পরিষদ কমিটির সভাপতি মাধব দেব জানান, ১৬ অক্টোবর থেকে মূল পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। পূজাকে ঘিরে মণ্ডপগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ভক্ত ও দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে পূজা উপভোগ করতে পারেন, সে বিষয়েও নেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি।
স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জানান, দুর্গাপূজা তাদের ধর্মীয় উৎসব হলেও এটি এখন সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। পূজাকে ঘিরে সব বয়সী মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ এগিয়ে যাওয়ায় ইতোমধ্যে বানিয়াচংজুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে ১২২টি পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হওয়ার পর শুরু হবে প্যান্ডেল নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য সাজসজ্জার কাজ। সব মিলিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবকে বরণ করতে প্রস্তুত হচ্ছে বানিয়াচং।
বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক জানান, উপজেলার ১২২ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। ইতমধ্যে প্রতিটি পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দদের নিয়ে মতবিনিময় সভা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মেহরাব হোসাইন বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। সব পূজামণ্ডপে পুলিশ, আনসার নিয়োগের পাশাপাশি এসআরবি’র সদস্যরা টহল দিবেন। যদি ঝুঁকিপূর্ণ পূজামণ্ডপ থেকে থাকে সেখানে বিশেষ নজর রাখা হবে।