সময়ের প্রবাহ কোনোদিন থামে না। পলকে পলকে দিন যায়, মাস গড়ায়, আর বছরের সীমানা পেরিয়ে গড়ে ওঠে এক একটি দীর্ঘ ইতিহাস। সেই ইতিহাস আর ঐতিহ্যের এক নীরব ও জীবন্ত সাক্ষী হয়ে সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে বানিয়াচংয়ের প্রাণের স্পন্দন—এল আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।
শত বছরেরও বেশি সময় ধরে জ্ঞান ও আলোকবর্তিকা ছড়িয়ে চলা এই প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলেই যেন ইতিহাসের চেনা সুর কানে বাজে। ইটের দেয়াল, সবুজ আঙিনা আর পুরনো গাছগুলোর ছায়ায় লুকিয়ে আছে কত শত কৈশোরের রঙিন গল্প।
বিদ্যালয়ের ওই ক্লাস রুমগুলো শুধু বই-খাতার পড়ালেখার জায়গা ছিল না; ওগুলো ছিল বন্ধুদের সাথে আড্ডা, হাসি, আর একসাথ হওয়ার কেন্দ্রবিন্দু।
টিফিনের ঘণ্টার শব্দেই হইচই করে দৌড় দেওয়া।
বারান্দায় দাঁড়িয়ে একসাথে গল্প করা কিংবা খেলার মাঠে বন্ধুদের সাথে ছুটে বেড়ানো।
শিক্ষকদের স্নেহপূর্ণ শাসন ও দিকনির্দেশনা, যা জীবনকে সঠিক পথে চালিত করতে শিখিয়েছে।
জীবনের কতগুলো বছর এই চত্বরে কত দ্রুতেই না কেটে গেছে! আজ শত ব্যস্ততার মাঝে আবার যখন এই চত্বরে পা রাখা হয়, মনে হয় যেন সময়ের ঘড়িটা হঠাৎ উল্টোদিকে ঘুরতে শুরু করেছে। সেই ফেলে আসা দিনগুলোর প্রতিটি কোণ যেন ডুকরে উঠে বলে—“এখানেই তো তোমার কৈশোরের সবচেয়ে সুন্দর চ্যাপ্টারটি লেখা হয়েছিল।”
“মানুষ চলে যায়, শৈশব-কৈশোর অতীত হয়ে যায়, কিন্তু প্রিয় বিদ্যাপীঠের স্মৃতি কখনো পুরনো হয় না—তা শতবর্ষ পেরিয়েও হৃদয় গহীনে সমানে অমলিন থাকে।”
এল আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেবল একটি বিদ্যাপীঠ নয়, এটি আমাদের শিকড়, আমাদের আবেগ এবং আমাদের চিরন্তন গর্বের জায়গা। শুভকামনা ও অশেষ ভালোবাসা শতবর্ষী এই লাইটহাউসের প্রতি!